বাংলা ভাষা ও লিপি
বাংলা
ভাষার আদি উৎস “ইন্দো ইউরোপীয় ভাষা”। এর দুটি অংশ। ১) কেন্তুম ও ২) শতম।
বাংলা ভষার
উৎপত্তি কেন্তুম অংশ থেকে। ড.শহীদুল্লাহ এর মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি গৌড়ীয় প্রাকৃত
খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী থেকে। ড.সুনীতিকুমা চট্রোপাধ্যায়ের মতে বাংলা ভাষার
উৎপত্তি মাগধী প্রাকৃত থেকে খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দী থেকে। প্রাচীন ভারতীয় লিপি ২
ভাগে বিভক্ত। ১) ব্রাহ্মী লিপি ২) খরোষ্ঠী লিপি। বাংলা ভাষার উৎপত্তি ব্রাহ্মী
লিপি থেকে।
বাংলা সাহিত্য
বাংলা
সাহিত্যের ইতিহাস হাজার বছরের ইতিহাস
বাংলা
সাহিত্যের ইতিহাস হাজার বছরের অধিক কালের ইতিহাস
এই
হাজার বছরের অধিক কালের ইতিহাস কে প্রধানতঃ ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১.
প্রাচীন যুগ, ২. মধ্যযুগ ৩. আধুনিক যুগ
১.
প্রাচীন যুগঃ (৬৫০/৯৫০ – ১২০০ খ্রী)
শ্রেষ্ঠ
বিজ্ঞানী – ড:মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ড:মুহম্মদ
শহীদুল্লাহর মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে (৬৫০-১২০০ খ্রীঃ / সপ্তম শতাব্দী
থেকে দ্বাদশ শতাব্দী) প্রায় ৫৫০ বছর
ড:সুনীতিকুমার চট্রোপধ্যায়ের মতে বাংলা
সাহিত্যের প্রাচীন যুগ (৯৫০-১২০০ খ্রীঃ / দশম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী) প্রায়
২৫০ বছর।
প্রাচীন
যুগের একমাত্র সাহিত্যের নিদর্শন – চর্যাপদ।
চর্যাপদঃ
বাংলাদেশের
আদি সাহিত্য চর্যাপদ যা হাজার বছর আগে রচিত হয়েছে এবং হাজার বছর পর আবিষ্কৃত
হয়েছে।
বাংলা
সাহিত্যর একমাত্র আদি নিদর্শন চর্যাপদ
চর্যাপদ
হচ্ছে কবিতা / গানের সংকলন
চর্যাপদ
হচ্ছে বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্মের সাধনতত্ব
চর্যাপদ
হচ্ছে পাল ও সেন আমলে রচিত
চর্যাপদ
রচনার প্রেক্ষাপটঃ
১৮৮২
সালে রাজা রাজেন্দ্র্লালমিত্র কিছু পুঁথি সাহিত্যের পরিচয় দিয়ে The Sanskrit Buddhist Literature in
Nepal
এই
গ্রন্থটি পাঠ করে সবচেয়ে বেশী উৎসাহিত হন যার উপাধি মহামহোপধ্যায়
যিনি
পরবর্তী কালে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা
চেয়ারম্যান
তিনি
১৯০৭ সালে ২য় বারের মত নেপাল গমন করেন
নেপালের
রয়েল লাইব্রেরী থেকে একসঙ্গে ৪ টি গ্রন্থ আবিষ্কার করেন।
এর
একটি হচ্ছে চর্যাপদ
বাকী
৩ টি হচ্ছে অপভ্রংশ ভাষায় রচিত
১.
সরহপদের দোহা
২. কৃষ্ণপদের
দোহা
৩.
ডাকার্ণব
উল্লেখিত ৪ টি গ্রন্থ একসঙ্গে কলিকাতার বঙ্গীয়
সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়
১৯১৬
সালে তখন চারটি গ্রন্থের একসংগের নাম দেওয়া হয় হাজার বছরের পুরোনো বাঙ্গালা ভাষার
বৌদ্ধ গান ও দোহা
এটি
প্রকাশিত হবার পর পালি সংস্কৃত সহ বিভিন্ন ভাষাবিদ রা চর্যাপদকে নিজ নিজ ভাষার আদি
নিদর্শন বলে দাবী করেন।
এসব
দাবী মিথ্যা প্রমাণ করেন ড. সুনীতি কুমার চট্রোপাধ্যায়
১৯২৬
সালে The Origin and
Development of Bengali Language গ্রন্থে চর্যাপদ এর ভাষা বিষয়ক গবেষণা করেন এবং প্রমাণ করেন চর্যাপদ
বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন।
১৯২৭
সালে শ্রেষ্ঠ ভাষা বিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের ধর্মতত্ব বিষয়ক
গবেষণা করেন এবং প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ বাংলাসাহিত্যের আদি নিদর্শন।
EmoticonEmoticon